অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ঢাকা, বাংলাদেশ – ৬ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নীতিগতভাবে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। অধ্যাদেশের খসড়া দ্রুত প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশের প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপট:
- বৈঠক সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া আইনি সুরক্ষার অনুরূপভাবে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাইযোদ্ধা’দের দায়মুক্তি দেওয়া হবে।
- সাম্প্রতিক সময়ে তাহরিমা জান্নাত সুরভী ও হবিগঞ্জ জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের গ্রেপ্তার হওয়ার পর দাবিটি আরও জোরালো হয়।
- ৪ জানুয়ারি ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারির আহ্বান ছিল।
আইনশৃঙ্খলা ও মামলার প্রক্রিয়া:
- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আগামীকাল আদালতে দাখিল করা হবে।
- এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
- বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়, বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা ও অনুপ্রবেশের আশঙ্কা মোকাবিলায় কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
- পার্বত্য এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং মাদক ও চোরাচালান দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গুজব প্রতিরোধ:
- বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
- উস্কানিমূলক বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা ভুয়া তথ্য ছড়ালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।