প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েন করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এ মিশনটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট মারসেল নেগি ও ইলেকশন অ্যানালিস্ট ভাসিল ভাসচেনকা। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে ইইউ প্রতিনিধিরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের মূল দল ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ঢাকায় পৌঁছেছে। এ মিশনে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন, যার মধ্যে রয়েছে ১১ সদস্যের একটি বিশ্লেষক দল।
আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। তারা নির্ধারিত এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রচারণা পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে মূল দলের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্তকরণ পর্যবেক্ষণের জন্য আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মিশনে যুক্ত হবেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক সম্প্রদায় ও অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক হিসেবে মিশনে অংশ নেবেন।
ইইউ প্রতিনিধিরা জানান, নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে মিশনটি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি তথ্যভিত্তিক, সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ প্রস্তুত করবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। প্রতিবেদনটি মিশনের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। ওই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সেটিও প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হবে।
এ সময় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।