বাংলাদেশ সরকার ২০৩.৪৭ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেছে বিএসসিকে
ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৪ জানুয়ারি ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে (বিএসসি) একটি শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিএসসি কর্তৃক বাস্তবায়িত ছয়টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ ও লভ্যাংশ বাবদ সরকারের পাওনা হিসেবে ২০৩.৪৭ কোটি টাকার চেক প্রধান উপদেষ্টার নিকট হস্তান্তর করা হয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে চেক হস্তান্তর করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন ও বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়েছে বিএসসি তা ধরে রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠানের আয় নিজেই তাকে আরও শক্তিশালী করে, বহরে নতুন জাহাজ যুক্ত হয় এবং নাবিকদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়।
প্রধান উপদেষ্টা মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী প্রদানের গুরুত্বও উল্লেখ করেন, যাতে তারা বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করতে সক্ষম হন।
কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, বিএসসি’র জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ৬টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের ঋণ চুক্তি (Loan Agreement-LA) ১৪ অক্টোবর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। ঋণের মূল পরিমাণ ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১,৪৫৭.৬৭ কোটি টাকা।
ঋণ পরিশোধের জন্য ২৭ অক্টোবর ২০২৪-এ সরকারের অর্থ বিভাগ ও বিএসসি-এর মধ্যে একটি Subsidiary Loan Agreement (SLA) স্বাক্ষরিত হয়। গ্রেস পিরিয়ডকালে মোট সুদের পরিমাণ ৪৭৫.২৫ কোটি টাকা।
প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিএসসি’র বহরে ৬টি নতুন বাণিজ্যিক জাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবহণে নিযুক্ত এবং বাংলাদেশের পতাকা বহন করছে।
বিএসসি ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় এবং সর্বোচ্চ মুনাফা ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা অর্জন করেছে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় বিএসসি ইতিমধ্যেই নতুন জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজের মধ্যে প্রথমটি (বাংলার প্রগতি) ২৮ অক্টোবর ২০২৫-এ ডেলিভারি নিয়ে বাণিজ্যে নিয়োজিত করা হয়েছে, দ্বিতীয় জাহাজ (বাংলার নবযাত্রা) ৩০ জানুয়ারি ২০২৬-এ ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত। পাশাপাশি, সরকারি অর্থায়নে ২টি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে ১টি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান। চীন থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আরও ৪টি বড় জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।