ঢাকা — ২২ জানুয়ারি ২০২৬
৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা–২০২৫-এর মাধ্যমে ৩ হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) গত ২৯ সেপ্টেম্বর ও ২৭ অক্টোবর পাঠানো চিঠির আলোকে ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার মাধ্যমে এসব প্রার্থীকে বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাতীয় বেতনস্কেল–২০১৫ অনুযায়ী মাসিক ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন। শর্ত অনুযায়ী, তাদের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি চাকরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পেশাগত ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দুই বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এই শিক্ষানবিসকাল সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিসকালে কোনো কর্মকর্তা চাকরির জন্য অনুপযোগী বিবেচিত হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিসকাল সন্তোষজনকভাবে অতিক্রান্ত হলে চাকরি স্থায়ী করা হবে।
চাকরি থেকে ইস্তফার ক্ষেত্রে সরকার থেকে ইস্তফা গ্রহণের আগে কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকলে তার কাছে সরকারের প্রাপ্য অর্থ আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিরূপ বা ভিন্নতর তথ্য পাওয়া গেলে নিয়োগ আদেশ সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। এছাড়া কোনো কর্মকর্তা বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে বা এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
এছাড়াও চাকরিতে যোগদানের সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে যৌতুক না নেওয়া ও না দেওয়ার অঙ্গীকারনামা দিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী দাখিল করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের সনদ যাচাইয়ে জাল প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শর্ত অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত দপ্তরে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।