ঢাকা, শুক্রবার: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাটের হার কমানো, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীতে আনন্দ মিছিল করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে বনানী কাকলি মেইন রোড হয়ে বনানী ১১ নম্বর সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি শেষ হয়।
মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সমাবেশে তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে শিক্ষার ওপর আরোপিত ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা এবং সাধারণ সম্পাদক এম. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু)। এ সময় সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি রিসালাত ইসলাম সজীবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত প্রায় ৫০ থেকে ৫২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিলে অংশ নেন।
সমাবেশে মো. আবু হোরায়রা বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগান্তকারী ও শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাটের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য ভাষা ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দেশের প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান।
এদিকে, সাধারণ সম্পাদক এম. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু) প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও যুগোপযোগী ও শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে— এমনটাই দেশের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।