বর্তমান সরকার তোষামোদ ও বন্দনার প্রথাগত রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। অতীতে রাজনৈতিক মঞ্চে উঠে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দনা করার যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে যেসব নিয়ম বা সংস্কৃতি জনগণের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকেও সফলভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও হিসাব তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, “বিশ্বজুড়ে সাধারণত সরকারগুলোর প্রথম ১০০ দিনকে একটি ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বা শিথিল সময় হিসেবে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়, যা প্রথাগতভাবে চলে আসছে। তবে এটি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত বা কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নয়।”
তিনি আরও বলেন, মূলত যেকোনো বড় কাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং তার প্রাথমিক সুফল বা দৃশ্যমান ফলাফল পেতে অন্তত ছয় মাসের মতো সময় প্রয়োজন হয়। জনগণের প্রতি সরকারের সরাসরি দায়বদ্ধতা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের সঠিক তথ্য জানার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেই মূলত এই ১৮০ দিনের পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সালেহ শিবলী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা ও প্রতিশ্রুতি ধরে ধরে তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। অতীতে নির্বাচনের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের কোনো নজির সাধারণত দেখা যায়নি।
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনাকে বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, “রাজনীতিতে একটি বড় গুণগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় সরাসরি সরকারের ওপর না থাকলেও, প্রকৃত জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সরাসরি শোকাহত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন—যা নজিরবিহীন।”
কিশোরগঞ্জে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সালেহ শিবলী বলেন, “বাংলাদেশ আজ একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। যেখানে রাষ্ট্রের প্রতি যেমন একজন নাগরিকের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা সমান। রাষ্ট্র তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে। এই রূপকল্প বা ভিশন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”
প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, অতীতে মিরপুরে সেনাবাহিনীর একজন নিহত কর্মকর্তার বাসায় প্রধানমন্ত্রীর নিজে উপস্থিত হওয়া এটিই প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার সবসময় মজলুম ও সংকটে থাকা মানুষের পাশে রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সবসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতে পছন্দ করেন। সম্প্রতি সাধারণ বাসযাত্রার সময় রাস্তা অতিমাত্রায় ফাঁকা রাখার বিষয়টি তাঁর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতে কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করা এবং নিজেকে জনগণের চেয়ে আলাদা না ভাবার এই মানসিকতাই মূলত নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের বাস্তব প্রতিফলন। সরকারি বিভিন্ন নীতিমালা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং সরকারি নানা প্রজ্ঞাপন দেখতে বাংলাদেশ গেজেট-এর পোর্টাল ভিজিট করা যেতে পারে।