ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
প্রস্তাবিত নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স। ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জন ফ্ল্যাহার্টির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে তিনি এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে দেশের জনগণ ও শিক্ষার্থীদের গভীর উদ্বেগ এবং আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ প্রস্তাবিত নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। আমরা চাই, এই আইনের প্রতিটি সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা সুনির্দিষ্ট, নির্ভুল এবং সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হোক। আইনের কোনো ধারা যেন অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক না থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা যদি সুনির্দিষ্ট না হয়, তাহলে অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের মতো জনগণকে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হতে হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই সরকারের স্বার্থে নয়। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, সাইবার অপরাধ দমন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে সেই আইন যেন নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণ, শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তিবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। আইনের প্রতিটি ধারা হতে হবে সুস্পষ্ট, ন্যায়সংগত ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ মনে করে, জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে প্রণীত একটি কার্যকর সাইবার সুরক্ষা আইনই দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।