অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সমন্বয় ও রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। পুলিশকে এককভাবে অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে সমন্বিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রত্যাশিত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
শনিবার কক্সবাজার জেলা এবি পার্টির শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ও দূরত্ব দূর করার চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার এবং প্রশাসন ও রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রভাবমুক্ত করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেসব কাজও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি।
মুজিবুর রহমান মঞ্জু রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও মানবপাচার চক্রের তৎপরতা এবং সশস্ত্র অপরাধের বিস্তার স্থানীয় জনজীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকনাফ ও উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও সমন্বিত যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধন ও নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিলেও প্রায় এক দশকেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
বক্তারা বলেন, সীমিত সম্পদের একটি জনবহুল দেশের পক্ষে দীর্ঘদিন এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব বহন করা কঠিন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কমে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক সমস্যা নয়; দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের কারণে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে দলটি বলেছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।