ফার্মাসিস্ট রেজাউল কর্তৃক
সুবর্ণচরে খতনা করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় শিশুর পুরুষাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত!
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়াতে (৬) বছরের শিশু আরিয়ান হোসেন রাফাজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
শিশুর পরিবার সূত্রে জানাযায়, গত ১লা (সেপ্টেম্বর) উপজেলার চরজব্বর থানার মোড়ে অবস্থিত রূপসী ফার্মাসিতে সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে ছয় বছরের শিশু আরিয়ানের গোপনাঙ্গের অতিরিক্ত কেটে ফেলেন প্যারামেডিকেল কোর্স সম্পন্ন করা রেজাউল। এ বিষয়ে শিশুটির স্বজনেরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত দায়িত্বে অবহেলা থেকে শিশুটির পুরষাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভিকটিম শিশুর পরিবার এ প্রতিদেককে জানান, সুবর্ণচরে দীর্ঘ দিন কর্মরত ছিলো রেজাউল। সে ডাক্তার না হয়েও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চেম্বার করে ভিজিট নেন। অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে রুগী বাণিজ্যে করা অভিযুক্ত রেজাউলের উপার্জনের বড় একটি মাধ্যম । প্রকৃত অর্থে তার কর্মস্থল কবিরহাট উপজেলার চর আলগী হাসপাতাল। এবিষয়ে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সুবর্ণচরের একাধিক ফার্মেসি মালিক জানান, কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে চেম্বার করে রুগী ভিজিটে মধু খাওয়া লোক হচ্ছে রেজাউল। সুবর্ণচরে আওয়ামী মধু খাওয়ার সুবাধে দীর্ঘ দিন একই স্থানে কর্মরত একজন সুভাগ্যবান ফার্মাসিস্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন । নানা অনিয়ম, রুগী বাণিজ্যে সহ একাধিক অভিযোগে বিগত ১৬ বছরে ২ মাস শাস্তিমূলক ভাসানচর তাকে বদলি করেন সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুম ইফতেখার। বদলি পরবর্তী জানা যায়, আ,লীগ এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও জেলা আ,লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম এই দুই কূল ম্যানেজ করে পূনরায় নোয়াখালীতে তার পোস্টিং করানো হয় গুঞ্জন শুনা যায়।
যেহেতু উপর মহল ম্যানেজ করতে তার অনেক টাকা শুনতে হয়েছে। তাই সে চরজব্বর থানার মোড়ে একটা ফার্মেসীতে বসে গুনে গুনে টাকা নিয়ে রুগী দেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ যেন তার মিনি এক প্রাইভেট হাসপাতালের রাজত্ব। এর আগেও তার ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছে চরাঞ্চলের অনেক গরীব মানুষ। সে ডাক্তার না হয়েও কিভাবে চিকিৎসা দেয়? প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ভিকটিম পরিবারের সদস্যরা।
রাফাজের চাচা ইমরাজ উদ্দিন সাকিব বলেন, রেজাউল কর্তৃক খৎনা করার পর এখন তার ভাতিজার অবস্থা ভালো না। তাকে নিয়ে চট্রগ্রাম আর নোয়াখালীতে দৌড়ের উপর আছি এখন আমরা।
ভিকটিম শিশুটি ২নং চরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের মনির আহাম্মদ কামলা বাড়ির আলমগীরের ছেলে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জন ডা. গোলাম হাবিব তার অপারেশন শেষ করে আগের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কথা পরিবারকে জানান বলে নিশ্চিত করেন।
রেজাউলের এমন কর্মকান্ডের শাস্তি চাই কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। ডাক্তারের নামে ভূয়া অপচিকিৎসা বন্ধ করতে হবে এ জনপথে। তার কর্মকান্ড নিয়ে আমরা সংবাদ সন্মেলন করবো এবং আদালতে মামলা করবো বলেও জানান এ প্রতিবেদকে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ফার্মাসিস্ট রেজাউলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি পারিবারিক একটা বিষয়ে মিটিংয়ে আছি ফেনীতে। পরে কথা বলবো বলে মোবাইলের সংযোগটি কেটে দেন। জনসম্মুখে প্রতিবেদটি প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত এখনও তার কোন সাড়া মেলেনি। প্বার্শবর্তী কবিরহাট উপজেলায় কর্মস্থল হলেও তার সুবর্ণচরে নিয়মিত ডাক্তার হিসেবে খ্যাতি রয়েছে যথেষ্ট।
রাহেনা আক্তার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, খতনা করাতে গিয়ে একটি শিশুর এমন অবস্থা হবে সেটা মেনে নেয়া যায় না। ডাক্তারের অবহেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। এর সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।
চর আলগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ শ্যামল কুমার দেবনাথ বলেন, ফার্মাসিস্ট রেজাউলের এই বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে হাসপাতালটি দেখাশুনা করি। ঐ হাসপাতালের সকল দায়িত্বে আছেন আমাদের জেলা সিভিল সার্জন স্যার। আপনি উনার সাথে কথা বলুন,তিনি ভালো বলতে পারবেন।
সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমি টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন এ আছি। পরে আপনাকে ফোন দিবো। এই বলে সংযোগটি কেটে দিলেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তার অফিস ম্যানেজ ছাড়া সে তো সুবর্ণচরে চেম্বার করা অসম্ভব। মনে হয় চোর পুলিশ খেলা চলছে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সুবর্ণচরে।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মরিয়ম সিমি জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। লিখিত একটা অভিযোগ দিতে বলেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে। আমরা তদন্ত করে আইগত পদক্ষেপ নিবো।
প্রসঙ্গত, প্রতি দিন চরজব্বর থানার মোড়ে রুপসী ফার্মেসীতে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে থাকেন ডা. রেজাউল করিম।