মেজর (অব.) সৈয়দ জিয়াউল হক সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে বলেছেন যে গুম ও অপ্রকৃতিহত্যার দায় শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের উপর চাপলে সেটা ভুল ধারনা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যারা-ই যে সেক্টরেই থাকুন না কেন নিরাপত্তা বাহিনী, আদালত, গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা বা অন্য কোনো পেশাগত ক্ষেত্র গুম-খুন ব্যবস্থার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা ছাড়া প্রকৃত বিচার সম্পন্ন হবে না।
মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের মন্তব্যের মূল বক্তব্যটি ছিল: “শুধু সেনাবাহিন্যের কিছু সদস্যরা গুম-খুনে জড়িত ছিল মনে করলে অত্যন্ত ভুল হবে। অন্য প্রতিটি বাহিনীর যারা যারা গুম-খুনে জড়িত ছিলেন—তাদের সবাইকে আইসিটিতে হাতকড়া সহ দেখতে চাই। শুধু নিরাপত্তা বাহিনীই নয়, এর বাইরে আদালত, সাংবাদিকতা, মিডিয়া কিংবা অন্য যে কোন সেক্টরের মানুষ এই গুম-খুন সিস্টেমের অংশ ছিল—তাদের সবাইকে আইনের আওতায় না আনা হলে, সেটি আসল বিচার হবে না।”
মেজর (অব.) হকের এই দাবি জনমত ও মানবাধিকার প্রচেষ্টার সঙ্গে মিল রেখে ‘সর্বাঙ্গীন জবাবদিহিতা’ ও ‘স্বচ্ছ তদন্ত’ এর অনুরোধ তুলে ধরে। তিনি বলেছেন যে বিচারের উদ্দেশ্য শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীরকে দায়ী মনে করা নয়, বরং ঘটনায় জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে আইনের সামনে এনেও দায়িত্ব নির্ধারণ করা যাতে পুনরাবৃত্তি রোধ হয় এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলছে, অনিয়ম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। মেজর (অব.) হকের এ বক্তব্য সেই প্রসঙ্গকে আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছে তাঁর মতে, বিচারে সবার অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে ‘বস্তুনিষ্ঠ বিচার’ পূর্ণ হতে পারবে না।
বিচারের আহ্বানকারীদের মধ্য থেকে অনেকেই বলছেন যে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সব প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ওইসব অনুরোধে বোঝা যায় সামাজিক নির্যাতন ও হঠাৎ অদৃশ্য হওয়া মত ঘটনার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র এক বা দু’টি সংস্থাকে দায়ী করা সমাধান নয়; পুরো সিস্টেম-ভিত্তিক অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা প্রয়োজন।
মেজর (অব.) সৈয়দ জিয়াউল হকের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা স্তরের প্রতিক্রিয়া জমে। বিশেষ করে মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও লেখকরা তার আহ্বানকে সমর্থন করেছেন তারা বলছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি, স্বাধীন তদন্ত ও অবাধ আইনি প্রক্রিয়া আবশ্যক।
উল্লেখ্য, অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া-ভিত্তিক কোনো ক্ষেত্রেই আদালত ও তদন্ত প্রক্রিয়ার শাসন ও বিধি মেনে কাজ করাই দেশের ধারণাধীন ন্যায়ের পথে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। মেজর (অব.) হকের আহ্বান সেই নীতিরই পুনঃআবির্ভাব ঘটানোর চেষ্টা বলেই বিবেচিত হচ্ছে যেখানে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না এবং প্রত্যেক অভিযুক্তকে আইনের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হবে।