কালামিয়া বাজারে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়, গরু চুরি ও মাদক সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক উদ্যোগের আহ্বান, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ও কেশবপুর ইউনিয়নের নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ সময় তিনি কালামিয়া বাজারে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, দুর্ভোগ ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
মতবিনিময়কালে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার নদীভাঙন, গরু চুরি, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কথা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন। বিশেষ করে কেশবপুর ও ধুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা এবং মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের বক্তব্য শোনার পর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি গরু চুরি ও মাদক সমস্যার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া ধুলিয়া ইউনিয়নের মটবাড়িয়া এবং কেশবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নদীভাঙনকবলিত এলাকাও পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য। সরেজমিনে নদীভাঙনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা শোনেন তিনি। নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা, ফসলি জমি ও মানুষের দীর্ঘদিনের বসবাসের জায়গা হারানোর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, নদীভাঙন এই এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় দুর্ভোগ। মানুষের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও গুরুত্বারোপ করেন, এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু সমস্যা শোনা নয়, বরং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাও জরুরি।
স্থানীয়দের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য এলাকার বাস্তব চিত্র জানার চেষ্টা করেন। নদীভাঙন রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক ও চুরির মতো সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এ সময় উঠে আসে।
জনগণের প্রত্যাশা—নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি গরু চুরি ও মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষা পাবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।