মার্কিন নভোচারী এবং কানাডীয় নভোচারী নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণে রওনা হবে ‘আর্টেমিস–২’
ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও মানুষকে চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতি জোরদার করেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে শনিবার নাসার বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযানকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের উৎক্ষেপণ মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মানববাহী এই ঐতিহাসিক অভিযানের নাম ‘আর্টেমিস–২’। কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী স্থানান্তরের মাধ্যমে নাসা এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার ধাপে প্রবেশ করেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রকেটটি চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে পারে।
ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে কমলা ও সাদা রঙের এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযানটি ধীরে ধীরে বের করে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ৩৯-বি লঞ্চ প্যাডে নেওয়া হয়। পরীক্ষার সফলতা নিশ্চিত হলে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় নভোচারী চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবেন, তবে অবতরণ করবেন না।
উড্ডয়নের আগে প্রকৌশলীরা একাধিক পরীক্ষা চালাবেন, যার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সিমুলেশন বা ডামি মহাকাশযাত্রাও রয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে নাসা আর্টেমিস–১ নামে একটি মানববিহীন মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল।
রকেট স্থানান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন মার্কিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হ্যানসেন বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চারজন মানুষকে চাঁদের চারপাশে ঘুরতে দেখা যাবে—এটা ভাবতেই রোমাঞ্চকর।’ ভিক্টর গ্লোভার যোগ করেন, ‘আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে এগোচ্ছি।’
চাঁদে ফিরে যাওয়ার এই মহাকাশ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনও সক্রিয়। বেইজিং ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অনুসন্ধানে ‘চ্যাং ই–৭’ চালকবিহীন মিশন পাঠানো হবে। পাশাপাশি মানববাহী মহাকাশযান ‘মেংজু’র পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও চলতি বছর শুরু হওয়ার কথা।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অগ্রযাত্রাকে মাথায় রেখেই ট্রাম্প প্রশাসন আর্টেমিস–২ মিশন দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ২০২৭ সালে নির্ধারিত আর্টেমিস–৩ মিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ স্পেস–এক্সের ‘স্টারশিপ’ মেগারকেট পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।