ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আওয়ামীলীগ সরকারের গুন্ডা বহিনী চাঁদাবাজির ডিল করতো ক্যাফে-রেঁস্তোরায় বসে। আর এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি করে ফুটপাতে বসে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। এনসিপির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি , জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ সফল করার লক্ষ্যে এ গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সবাই নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে অখুশি। ফলে, তারা একে অন্যের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। আমরা দেখি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ মন্ত্রণালয় রেখে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছে, ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছে। আবার মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী অস্ত্র নিয়ে কনস্টেবলের দায়িত্ব পালন করছে। আর এই এলাকার (মোহাম্মপুরের) এমপি গুলশানে গিয়ে এলিট সোসাইটির সাথে লাইফ এনজয় করছেন। ফলে এই সরকার গঠিত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ৩ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করতে আমরা দেখেছি। আগামী ৩-৪ বছর পর এই সরকার আর এই সরকার থাকে কীনা? এটি নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এই বিএনপির ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। কেননা, আমাদের মা-বোনো ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঘওে ফিরতে পারবে কীনা? সেই নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা বিএনপি সরকার।
তত্বাবধায়ক সরকারের নামে বিএনপি ট্যাবলেট খাওয়ানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে আসিফ বলেন, বিএনপি কখনো নিজ সক্ষমতা দিয়ে কখনো ক্ষমতায় আসে নাই। ৯০’ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে বিএনপি ৯১ সালে ক্ষমতায় এসেছে। এরপর ৯৬’ সালে ভোট চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়ে ক্ষমতা ছেড়েছে। আবার ২০০৬ সালে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে খেলা করতে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২০ বছর আমাদেরকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে তারা ক্ষমতায় এসেছে। এবার, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গণভোটের সাথে প্রতারণা করছে বিএনপি। সংশোধন-সংশোধন খেলা শুরু করে দিয়েছে। সুতরাং তাদের পরিণতি আগের দুইবারের থেকে ভিন্ন কিছু হওয়ার সুযোগ আমরা দেখছি না।
সরকার নিয়ে বিএনপির লোকজন ভরসা পাচ্ছে না উল্লেখ করে আসিফ বলেন, ৯৯ শতাংশ মানুষই এই সরকারকে ভরসা করছে না। সবাই বলে এ সরকার মাত্র ২ বছর টিকবে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও বলে ৩ থেকে ৪ বছর কোনমতে টিকতে পারে এ সরকার। তাই সব জায়গায় খাই-খাই শুরু হয়ে গেছে।
জনগণকে এনসিপির ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই সবকিছু থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন এবং আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এই জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আপনারা আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন, তারপরে জাতীয় নির্বাচনে আপনারা আমাদেরকে সমর্থন দিয়েছেন। আপনারা আমাদের প্রতি ভরসা রাখেন। সেই দায়িত্বের জায়গা থেকে আমরা আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলে যাব। আগামী দিনে একটি সুন্দর, শক্তিশালী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব।
গণসংযোগে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদিব, সারোয়ার তুষার, আকরাম হোসেন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ।