ঢাকা | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে শক্ত অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একক মূল্যের পতনের কারণে এই অবস্থান সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সদ্য ঘোষিত ইউরোপ-মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ডিসেম্বর ২০২৪-এর তুলনায় ১২.০৫ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯.৪৬ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ৯.৮৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৪.১৪ শতাংশ কম। বিশেষ করে নিটওয়্যার পণ্যে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ, আর ওভেন পোশাকে কমেছে ১.৮৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে অন্যান্য দেশ ইউরোপে পণ্য পাঠাতে আগ্রাসী হয়েছে। ফলে ইইউতে সরবরাহ বেড়েছে, প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে এবং পোশাকের দাম কমেছে।
ইউরোপীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট তৈরি পোশাক আমদানি বেড়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২.১০ শতাংশ বেশি। তবে গড় একক দাম ১০.২৭ শতাংশ কমায় বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৯.৪১ বিলিয়ন ডলার হলেও একক মূল্যের পতন ৩.৮৪ শতাংশ।
ভারতের সঙ্গে সদ্য ঘোষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ইইউতে ভারতীয় পোশাকের প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। এতে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়ে যাবে, যা বাংলাদেশের জন্য বাজারে চাপ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন যে, ইইউ বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু পরিমাণ নয়, মূল্য ও মানের দিকে নজর দিতে হবে। উচ্চমূল্যের পণ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন বাজার অনুসন্ধান ছাড়া ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হবে।
ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি এবং সরকারের সীমিত সহায়তার কারণে বাংলাদেশের শিল্প খাত বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে। অন্য দেশগুলো দ্রুত প্রণোদনা ও নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।