গতকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-র তিন পার্বত্য জেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেছে বলে তার জানা নেই। সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কারণ হলো তাদের কোনো জবাবদিহিতা না থাকা। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এখন পাহাড় থেকেই জোরালো আওয়াজ ওঠা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পাহাড়ের সংকট নিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একইসঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপোষহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবো। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
পাহাড়ের জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি অত্যন্ত জটিল এবং এর কোনো একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত ও সমান মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। এই বিভাজন ও দ্বন্দ্বের সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ আলাপ আলোচনা করে সমাধান বের করা।’ সামরিক কায়দায় পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী কিছু অর্জন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসার ওপর জোর দেন। যারা দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে ব্যক্তিগত বা দলীয় সুবিধা নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ৭২ এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতার নামে, ধর্মের নামে সমাজের নামে দেশকে বিভাজিত করে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি এসব বিভাজন দূর করে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো।’
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন যে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব স্থানে তাদের দলীয় প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং পাহাড়কে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান। তার আশা, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ নতুন ও তরুণ জনপ্রতিনিধি খুঁজে পাবে।