Daily Crisis Bd
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫/অনলাইন ডেক্স, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
এজাহার-সুরতহাল-মেডিকেল-চার্জশীটের অমিল; ফুলপুর থানা পুলিশের তদন্তে আদালত বিভ্রান্ত
ময়মনসিংহের ফুলপুরে একই ঘটনায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, এজাহার, সুরতহাল, মেডিকেল রিপোর্ট ও পুলিশের চার্জশীটের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য ধরা পড়ার পরও আদালতকে বিভ্রান্ত করে রায় ও সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে আসামি জাকারিয়া ফকিরের পরিবারকে মানবেতর জীবনযাপনে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফুলপুর থানা মামলা নং- ১০( ৫) ২০২৪ ইং। বাদী আব্দুস সালাম ফকির।
জানা যায়,আসামি জাকারিয়া উচ্চ আদালতে মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করে জামিন চাইলে এক বছরের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু বাদী পক্ষ পরবর্তীতে একটি তদন্তবিহীন জিডি দাখিল করে ও মেডিকেল রিপোর্ট গোপন রেখে আপিল বিভাগকে বিভ্রান্ত করে জামিন স্থগিত করাতে সক্ষম হয়।
ফলে ১১ সদস্য বিশিষ্ট পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রধান আসামি জাকারিয়া ফকির। এমনটাই অভিযোগ তার পরিবারের।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা পুলিশের এমন উদ্দেশ্যমূলক সংযোজন ও বিকৃতি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং আদালত বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
বাদী পক্ষের দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল,আসামি জাকারিয়া ফকির হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ভিকটিমের ডান পায়ের নিচে আঘাত করেন। এতে ভিকটিম মাটিতে পড়ে যায় এবং পরে গলা চেপে ধরা হয়। এজাহারে বুকে আঘাত বা পেটে বসার কোনো উল্লেখ নেই।অন্যদিকে পুলিশ প্রস্তুতকৃত সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়—শুধুমাত্র ডান পায়ের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেখানে গলা চেপে ধরা বা বুকে আঘাত কিংবা পেটে বসার কোনো আলামত নেই।
মেডিকেল রিপোর্টের Final Opinion-এ বলা হয়—মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায়নি এবং প্রাপ্ত আঘাত মৃত্যু ঘটানোর মতো যথেষ্ট ছিল না।
অর্থাৎ ভিকটিমের শরীরে পাওয়া আঘাত মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো যথেষ্ট নয়।
তবে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা পুলিশের চার্জশীটে নতুন কাহিনি যুক্ত হয়—ভিকটিম পড়ে গেলে জাকারিয়া ফকির নাকি ভিকটিমের পেটের উপর বসে বুকে আঘাত করেন। পুলিশ দাবি করে, আসামিদের মারপিটেই ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের জবানবন্দিতে তা প্রমাণিত। অথচ এজাহার বা সুরতহালে এসবের কোনো উল্লেখই ছিল না।
এমনকি মেডিকেলের ভাষা was not sufficient to produce death বিকৃত করে চার্জশীটে দেখানো হয়েছে was not sufficient of produce death
ওই সময় আসামি পক্ষ সঠিক মেডিকেল রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দিলে আদালত এক বছরের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু বাদী পক্ষ পরবর্তীতে একটি তদন্তবিহীন জিডি দাখিল করে ও মেডিকেল রিপোর্ট গোপন রেখে আপিল বিভাগকে বিভ্রান্ত করে জামিন স্থগিত করাতে সক্ষম হয়। ফুলপুরের পুরাননগর গ্রামের বাসিন্দা ১নং আসামি জাকারিয়া ফকির, যিনি ১১ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, বর্তমানে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জাকারিয়া ফকির অভিযোগ করে বলেন, থানার এসআই মুহাম্মাদ শফিকুল আলম তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। ঘুষ না দেওয়ায় আমাদের পক্ষে মেডিকেল রিপোর্ট আসার পরেও আদালতে নাটক সাজিয়ে আমাদের নামে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আল্লাহ যেন তার বিচার করে।
ফুলপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হাদী জানান, আমরা তদন্তে যা পেয়েছি তাই বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি। আমাদের কোন গাফিলতি নেই। এখন আদালতের বিষয়। আসামিরা যদি জড়িত না থাকে তাহলে তারা আদালত থেকে মুক্তি পাবে। ১০ লাখ টাকার ঘুষের দাবি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমি এসব জানি না। আমার থানায় কোন ঘুষ লেনদেন হয় না।
প্রশ্ন উঠেছে,একই মামলায় যখন এজাহার, সুরতহাল, মেডিকেল রিপোর্ট ও চার্জশীট একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক, তখন পুলিশের এমন উদ্দেশ্যমূলক সংযোজন ও বিকৃতির পেছনে কার স্বার্থ লুকিয়ে আছে? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।
পরিবারটি দাবি করছে যে আব্দুস ছালাম ফকির অবৈধ উপায় ৬২ শতাংশ জমি নাম জারি করার প্রতিবাদ,ও ঘরের পাশে পাড় স্থাপন না করে পুকুর পুনঃখনন করায় ঘরটি মারাত্মক ঝুঁকিতে ছিলো, তারই প্রতিবাদ করতে গেলে জাকারিয়া ফকিরের উপর ঝাপিয়ে পড়ে, উপান্ত না পেয়ে পুলিশের দারস্থ হলে, পুলিশ তাকে আটক করে, এবং বিপুল পরিমাণ টাকা দাবী করে থানায় আটকে রেখে সাজানো মামলা দায়ের করে, না দেওয়ায় মেডিকেল রিপোর্টের মত বিষয়ে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে, বাদী ও দূর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তারা, তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন যে সুপ্রিম কোর্টের মত জায়গায় মেডিক্যাল রিপোর্ট গোপন করে আদালতের চোখে ধুলো দিয়ে অবাধে আমার পরিবারকে হেনস্তা করছে বাদী পক্ষ, তিনি উচ্চ আদালতের এমন আচরণে সংশয় প্রকাশ করছেন যে আদালত আমার উপর অবিচার করেছে, তিনি আদালতের উপর আস্থা রাখতে পারছেন না,,