গ্রাম থেকেই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করার আহ্বান; গ্রাম বাঁচলে সমাজ ও দেশ এগোবে বলে মন্তব্য এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কের।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জের অসংখ্য মসজিদের সংস্কার, খেদমত ও পরিচালনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন প্রবাসীরা।
শুক্রবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, একটি এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চিত্র অনেকাংশে সেই এলাকার মসজিদকেন্দ্রিক পরিবেশে প্রতিফলিত হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ শুধু মসজিদের অবকাঠামো উন্নয়নেই নয়, বরং স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এলাকায় সাধারণত শিক্ষিত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও আলেমদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। এতে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি নৈতিকতা, শিক্ষা ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়।
তিনি কেন্দ্রভিত্তিক উন্নয়নের সমালোচনা করে বলেন, গ্রামকে পিছিয়ে রেখে একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়া কঠিন। তাই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হওয়া উচিত গ্রাম থেকেই। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে মসজিদের ভূমিকা এবং প্রবাসীদের অবদান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, মসজিদ একটি এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায়। একটি সমাজের চিন্তা, মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার চিত্র অনেকটাই মসজিদকেন্দ্রিক পরিবেশে ফুটে ওঠে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জের অসংখ্য মসজিদের খেদমত, সংস্কার ও পরিচালনায় প্রবাসীরা বড় ভূমিকা রাখেন। তাঁদের পাঠানো অর্থ শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়, স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ গঠনের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে যত বেশি সমৃদ্ধ, সাধারণত সেখানে তত বেশি শিক্ষিত ও দক্ষ ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং আলেমে দ্বীন কাজ করার সুযোগ পান। ফলে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শিক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা নিয়ে গভীরভাবে কাজ করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, একজন ভালো আলেম যেমন একটি গ্রামের নৈতিক দিকনির্দেশক হতে পারেন, তেমনি একজন দক্ষ শিক্ষক, চিকিৎসক বা পেশাজীবী গ্রামে থেকে সেবা দেওয়ার সুযোগ ও সম্মান পেলে পুরো এলাকার জীবনমান বদলে যেতে পারে।
তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সুযোগের অভাব এবং কেন্দ্রভিত্তিক উন্নয়নের কারণে অধিকাংশ মেধাবী মানুষ শহরমুখী হয়ে পড়ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হোক গ্রাম থেকে। গ্রাম বাঁচলে সমাজ বাঁচবে, সমাজ বাঁচলে দেশ এগোবে। কারণ বাংলাদেশের আত্মা এখনো গ্রামেই বাস করে।”