রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমীরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের দুর্ভোগ এবং আমাদের ঘোষিত দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হবে। সকাল ৮টায় মূল যাত্রা শুরু হয়ে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পথসভা, টাঙ্গাইলের নগর জালপাইয়ে পথসভা, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পথসভা, বগুড়ার মাটিডালিস্থ বিমান মোড়ে পথসভা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করা হবে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিবাদন জানাবে লংমার্চের বহরকে। সবশেষ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে আমরা জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাই। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব-দুর্নীতি বন্ধ, দ্রব্যমূল্য ও জনদুর্ভোগ কমানো এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমাদের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আমরা বিশেষভাবে বলতে চাই, এই লংমার্চ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। আমরা সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব সংস্থার সহযোগিতা কামনা করছি, যাতে জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে একটি সুশৃঙ্খল কর্মসূচি সম্পন্ন করা যায়।
একই সঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, কেউ যেন শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করেন। কোনো ধরনের উসকানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই জনগণের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
সবশেষে আবারও বলছি, ১১ দলের এই কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেব না। সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান—জনগণের কণ্ঠস্বরকে সম্মান করুন, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করুন এবং জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে সহযোগিতা করায় দেশবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।