জুলাই আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক আইনজীবীদের সেমিনারে সরকারের সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবীরা। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সেমিনারে বক্তারা বলেন, পুরো জাতির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, “বর্তমানে যারা জুলাই সনদ নিয়ে নানা ধরনের তালবাহানা করছেন, তাদের কাউকেই রাজপথের সেই উত্তাল দিনগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়নি।” স্বৈরাচারের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তিরা সবসময় অতীত ভুলে যায় এবং যে সিঁড়ি বেয়ে তারা ক্ষমতার মসনদে আসে, পরবর্তীতে সেই সিঁড়িটিই তারা ধ্বংস করে দেয়।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নামে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করে সরকার জনগণের সঙ্গে আরেকটি নতুন প্রতারণা করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “সংবিধানে কেবল ছোটখাটো সংশোধন নয়, বরং পুরো সংবিধান সংস্কার করতে হবে। যদি সরকার দ্রুত যথাযথ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে, তবে এর ফয়সালা রাজপথেই হবে।”
সেমিনারে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে সহজ আইনি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বর্তমানে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যে—এমন আদেশ রাষ্ট্রপতি দিতে পারেন কি না—তার সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান-এ রয়েছে। আমাদের সংবিধানে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত ১৫০ অনুচ্ছেদ এবং চতুর্থ তফসিল রয়েছে। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলেই স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, এই ধরনের আদেশ রাষ্ট্রপতি দিতে পারেন; তাই এই আদেশ নিয়ে মূলত কোনো ধরনের আইনি বিতর্ক থাকার কথা নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কাল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল। অতীতে ১৯৭২ বা ১৯৭৩ সালে যদি বিশেষ আদেশ দেওয়া বৈধ হয়ে থাকে, তবে বর্তমান সময়ে কেন এই আদেশ দেওয়া যাবে না—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ গেজেট-এর ওয়েবসাইটটি অনুসরণ করা যেতে পারে।