ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি এবং আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মহসেন রেজাই ঘোষণা করেছেন যে ইরান হরমুজ প্রণালীর বাইরে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি “নিষিদ্ধ অঞ্চল” [Restricted Zone] ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ওই অঞ্চলটি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ লাইন থেকে শুরু হবে।
রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ যদি তেহরানের সাথে পূর্ব-সমন্বয় ছাড়া এই নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে [Restricted Zone] প্রবেশ করে, তবে সেটিকে সরাসরি ইরানের জাতীয় ব্ল্যাকলিস্ট বা নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ব্ল্যাকলিস্টেড বা নিষিদ্ধ তালিকায় পড়া জাহাজগুলো ভবিষ্যতে আর কখনোই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বা ইরানের জলসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সাথে সাথে ওই জাহাজগুলোর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ইন্স্যুরেন্স কভারেজ বড় ঝুঁকিতে পড়বে বা বাতিল হয়ে যাবে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা কেড়ে নেয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধের পাল্টা জবাব দিতেই ইরান এই “অর্থনৈতিক যুদ্ধ কৌশল” বেছে নিয়েছে। তেহরান ইতিমধ্যেই তাদের ব্ল্যাকলিস্টে নতুন করে ১১টি ক্রুড অয়েল ও এলএনজি (LNG) ট্যাঙ্কারসহ মোট ৫৬টি জাহাজ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন সমর্থিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বৈশ্বিক চলাচল সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়াই ইরানের মূল লক্ষ্য।
এই জলপথের নতুন ট্রানজিট রুট বা মানচিত্রটি ওমানের সাথে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি সই হবে।