বরিশাল, বাবুগঞ্জ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার।
আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ যখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনও বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কিচমৎ ঠাকুরমল্লিক এলাকার মানুষ নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় মানুষের এই ভোগান্তির এক নির্মম প্রতিচ্ছবি দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্দেশনায় ঈগল টিমের যাত্রা এবং স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে সহযোগিতার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অবহেলিত জনপদের বাস্তব সমস্যা তুলে ধরা, জনদুর্ভোগের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে পরিচালিত একটি উদ্যোগ।
এটি কেবল একটি বাঁশের সাঁকোর গল্প নয়; এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অবহেলা, বঞ্চনা এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার সংকটের বাস্তব চিত্র। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটিতে ভরা পিচ্ছিল পথ পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো অতিক্রম করে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে হয়। অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিতে পোহাতে হয় দুর্ভোগ, আর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। সাঁকোর দুই প্রান্তের মানুষের জীবনযাত্রা যেন প্রতিদিনের এক অবিরাম সংগ্রাম। শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই পথ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও একটি জনপদের মানুষকে কেন এমন অনিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে? উন্নয়নের সুফল যদি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে না পৌঁছায়, যদি একজন শিক্ষার্থী নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে না পারে এবং একজন অসুস্থ মানুষ নির্বিঘ্নে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা না পান, তাহলে সেই উন্নয়নের পূর্ণতা কোথায়?
রাজনীতি কি কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা, দলীয় আধিপত্য কিংবা এক পক্ষের ওপর অন্য পক্ষের দমন-পীড়নের নাম? নাকি রাজনীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবহেলিত জনপদের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা করা? এই বাস্তবতা আবারও মনে করিয়ে দেয়, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্দেশনায় ঈগল টিমের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ। এ লক্ষ্যে এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে একটি নিরাপদ সেতু বা উপযুক্ত স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ঈগল টিমে উপস্থিত ছিলেন
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্দেশনায় পরিচালিত এ উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বরিশাল জেলা ও মহানগর ইউনিটের সদস্য সচিব জি এম রাব্বী, দলের সদস্য সোহরাব হোসেন ও রাজিব হোসেন; এবি পার্টি মাধবপাশা ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হায়দার ভূইয়া, প্রচার সম্পাদক জিহাদ ভূইয়া ও সদস্য মিজানুর রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ, বরিশাল জেলা ও মহানগর ইউনিটের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম শুভসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান
কিচমৎ ঠাকুরমল্লিকের মানুষের দুর্ভোগ যেন আরেকটি প্রতিশ্রুতির আড়ালে হারিয়ে না যায়। শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। দলটি বিশ্বাস করে, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে মানুষকে—বিশেষ করে সেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে, যাদের কণ্ঠস্বর দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার আড়ালে চাপা পড়ে আছে।
ঈগল টিমের এই যাত্রা হোক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরার এবং বাস্তব পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি ক্ষুদ্র কিন্তু অর্থবহ প্রচেষ্টা।
আমাদের প্রত্যাশা—কিচমৎ ঠাকুরমল্লিকের মানুষ নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা পাবে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে সবার দোরগোড়ায়।