ড. হাসানুজ্জামান চৌধুরী
ঢাকা | ১৬ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যেখানে ৯২ দশমিক ৫ ভাগ মানুষ মুসলিম। এ দেশ বহুপ্রজন্ম ধরে ইসলামি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জনমিলনের ধারায় গঠিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক প্রহসন থাকলেও মুসলিম জনগোষ্ঠী শান্তি ও সামাজিক ঐক্য রক্ষা করে এসেছে।
জনসংখ্যা ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট
- বাংলাদেশের মুসলিম সংখ্যা ২০ কোটি বনের মধ্যে প্রধান সংখ্যা, হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় ৭%, বৌদ্ধ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিয়ে বাকী।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নেটিভ ধর্মের মানুষ বাস করে।
- দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের চেষ্টাকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে রুখে দেওয়া হয়েছে, যেমন ১৯৬৪, ১৯৯০ এবং ২০০১ সালে।
ইতিহাসে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা
- পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুর সময়, মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
- হিন্দুস্তানের হিংস্রতা ও সাম্প্রদায়িক উগ্রতাকে বাংলাদেশের মুসলিমরা বিভিন্ন সময় রুখেছে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি
- মুসলিম পরিবারে সন্তান সংখ্যা সাধারণত ৪–১০, হিন্দু পরিবারে ১–২।
- দ্বীনি দায়বোধ এবং পরিবার প্রতিপালনের প্রথার কারণে মুসলিমদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনীতি ও ধর্ম
- লেখক উল্লেখ করেন, দেশে ধর্ম ও রাজনীতি আলাদা বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ইসলাম মৌলবাদ, উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত নয়, বরং দ্বীনকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও নৈতিক নির্দেশনা দেয়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
- ২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, বিদেশি চক্র ও অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদী রাজনীতি মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থে হুমকি সৃষ্টি করেছে।
- লেখক মনে করান, গণমানুষের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ছাড়া দেশ যথাযথ উন্নতি ও সাম্যের পথে এগোতে পারবে না।