বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবার নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, একই দিন অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক গণভোট।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জনগণের মতামত ও সম্মতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গণভোটে চারটি বিষয়কে ঘিরে একটি মূল প্রশ্ন থাকবে, যার উত্তরে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।
গণভোটের প্রশ্নটি হবে-
আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত সংবিধান সংস্কারের নিম্নোক্ত প্রস্তাবসমূহে সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?
ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।
খ. আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। দলগুলো যে পরিমাণ ভোট পাবে, সে অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে এই উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
গ. সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব-যা জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়েছে-এসব বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি হলে আগামী সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। একইসঙ্গে তারা সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। এর মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত। পাশাপাশি, জুলাই সনদকে সংবিধানে যুক্ত করার ব্যবস্থাও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।