আবরার ফাহাদের শাহাদাত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমন একটি ঘটনা, যা কেবল একটি তরুণের নির্মম হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। ৭ অক্টোবর ভোরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এর আগে ৫ অক্টোবর ২০১৯, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতার ঘোষণার দিন আবরার তাঁর ফেসবুক পোস্টে ফেনী নদী থেকে ভারতের পানি প্রত্যাহারসহ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
আবরার ফাহাদ তাই একটি নামের চেয়েও বেশি কিছু। তিনি হয়ে উঠেছিলেন তৎকালীন বিদেশি আধিপত্যবাদ এবং তৎকালীন হাসিনা সরকারের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের একটি প্রতীক।
তাঁর শাহাদাত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অর্থ নিজের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নীরব থাকা নয়। পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
আবরারের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছিল, সেগুলো পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থেকেছে।
একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক কি নিজের দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখবে না?
আবরার ফাহাদ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাত কবুল করুন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসে উচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর পরিবারকে সবর ও উত্তম প্রতিদান দান করুন।