কওমি অঙ্গনে একসময় সাহিত্যচর্চার নেতৃত্ব দিয়েছে রাহমানিয়া, মালিবাগ ও দারুর রাশাদসহ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা। ধারাবাহিকতার ক্রমে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানই নিজ নিজ সময়ে উল্লেখযোগ্য লেখক তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, মাদরাসাতুল মাদীনাহ নিজস্ব কোনো লেখকগোষ্ঠী গড়ে না তুললেও শিক্ষার্থীদের লেখালেখির প্রতি উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
সম্প্রতি জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল-ইসলামিয়ায় গিয়ে মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে কওমি অঙ্গনের সাহিত্যচর্চার নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের। এখানকার শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখার মানসিকতা এবং বড় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে লেখক তৈরির অনুকূল আবহ তৈরি হয়েছে।
এই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলনও দেখা গেছে সম্প্রতি। ৩৬ জুলাই উপলক্ষে দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয় ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্র কাফেলা’র সাহিত্য বিভাগ। অনুষ্ঠানের আগের দিন শিক্ষার্থীরা সম্পাদনার জন্য বেশ কয়েকটি লেখা জমা দেয়। সময়ের স্বল্পতা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সব লেখা সম্পাদনা করা সম্ভব না হলেও, পরদিন সকালে দেখা যায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লেখা সংগ্রহ, সম্পাদনা, নকশা ও প্রকাশনার কাজ শেষ করে একটি আকর্ষণীয় দেয়ালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাহিত্যচর্চার প্রতি তাদের আন্তরিক আগ্রহের পরিচয় বহন করে। এমন স্বপ্নবান তরুণদের হাত ধরেই ভবিষ্যতে জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল-ইসলামিয়া কওমি অঙ্গনে নতুন সাহিত্যধারা গড়ে তুলবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
ইব্রাহিম জামিলের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংক্ষেপিত।