আইনজীবী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত ওই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট রাজনীতিক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষ থেকে যে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, তা মেনে চললে রাষ্ট্র সংস্কারের মূল সমস্যাগুলোর সমাধান অধরাই থেকে যাবে।
তিনি আরও বলেন, যদি এর বিপরীতে সাধারণ জনগণের গণভোটের রায় মেনে নেওয়া হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিএনপির সেই নোট অব ডিসেন্ট বাতিল হয়ে যায়, কারণ গণভোটের মূল ব্যালটে কোনো নোট অব ডিসেন্ট যুক্ত ছিল না। মূলত এই কারণেই বিএনপি বর্তমান গণভোটের রায় মেনে নিতে নারাজ এবং একে অবৈধ বলে দাবি করে আসছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর তথ্য ও নিয়ম অনুযায়ী, গণভোটের ফলাফল চূড়ান্ত এবং এটি সব রাজনৈতিক দলেরই মেনে চলা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান সরকারের আইনি বৈধতা ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার বা রাষ্ট্রপতি আদেশ অমান্য করার অর্থ হলো বর্তমান সরকার ও সংসদকে সরাসরি অবৈধ ঘোষণা করা। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর যে প্রেসিডেন্সিয়াল বা রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করা হয়েছিল, মূলত সেই আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারিকৃত আদেশগুলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন ও সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। বিএনপি এই বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার বনাম সংশোধনের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোটখাটো কোনো শব্দ বা বাক্য পরিবর্তন করার নাম সংশোধন নয়; বরং সংস্কার বলতে পুরো কাঠামোর আমূল পরিবর্তনকে বোঝায়। দেশের জনগণ আজ রাষ্ট্র কাঠামোর পুরনো বন্দোবস্ত পাল্টে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেখতে চায়, যার প্রতিফলন ঘটেছে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বাক্সে সাধারণ মানুষের বিপুল রায়ের মধ্য দিয়ে। তাই জনগণের সেই চূড়ান্ত রায়কে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে আইনি ও দাপ্তরিক নথিপত্র দেখতে বাংলাদেশ গেজেট-এর আর্কাইভ পর্যালোচনা করা যেতে পারে।