ডেইলি ক্রাইসিস বিডি: ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েমেনের যুদ্ধ আরও জটিল হয়েছে, কারণ দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ আবার সৌদি আরব–হুথি সংঘাত এবং বৃহত্তর ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।
হুথিদের সৌদি আরবের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং সৌদি আরবের পাল্টা সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। উভয় পক্ষই সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে, ফলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ কমছে।
সৌদি আরব ইয়েমেনের সীমান্তে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিদের শক্তিশালী হয়ে ওঠাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। অন্যদিকে, ইরান হুথিদের সমর্থন দিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে ওঠে।
ইয়েমেনের উপকূলের কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলাচল করে। এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পণ্য পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে। তাই ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়।
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর দীর্ঘদিনের শাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতা ছাড়েন। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতা ভাগাভাগি, সংবিধান ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে স্থিতিশীল সমাধান দিতে পারেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব যুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
২০১৪ সালে হুথি আন্দোলনের যোদ্ধারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে এবং সরকারকে চাপে ফেলে। তারা নতুন সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন চাইছিল। এর ফলে গৃহযুদ্ধ তীব্র হয়।
২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে পুনর্বহাল করা এবং হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো।
তাইজ শহর ও আশপাশের এলাকায় সামরিক অগ্রগতি, সড়ক অবরোধ এবং পাল্টা আক্রমণ সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। শহরটির অবস্থান দক্ষিণ ইয়েমেনের যোগাযোগ ও সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের খাবার, জ্বালানি ও ওষুধ পাওয়াও কঠিন হচ্ছে।
হুথি আন্দোলন ইয়েমেনের বড় অংশে নিজেদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার দেশের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
সৌদি আরব ও তার মিত্ররা স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করেছে এবং হুথিদের মোকাবিলা করেছে।
ইরান হুথিদের সমর্থন দিয়েছে; সৌদি আরবের সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে ইরানের।