ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫:
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দলটির সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হয়ে পড়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে এখন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে—সে বিষয়ে এখনো কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজন হলেও, রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিবেচনায় দলটি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে কার ছবি—বিএনপির বড় দোটানা
খালেদা জিয়ার মৃত্যু বিএনপির সামনে একটি সংবেদনশীল বাস্তব প্রশ্ন তৈরি করেছে—
নির্বাচনী প্রচারে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ডিজিটাল পোস্টারে কার ছবি ব্যবহার করা হবে?
কারণ, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী,
দলীয় মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে শুধু বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে এবং তা পোর্ট্রেট আকারে হতে হবে।
তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির বহু প্রার্থী প্রচারসামগ্রী ছাপিয়েছেন, যেগুলোর বড় অংশেই রয়েছে খালেদা জিয়ার ছবি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর সেই বাস্তবতা বদলে গেছে।
তারেক রহমান দায়িত্বে, তবে পদবি ব্যবহার হচ্ছে না
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও বাস্তবে এখনো তাকে ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। ফলে নির্বাচনী প্রচারে কার ছবি যাবে—তা নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আপাতত রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। তবে বাস্তবে দলের সব সিদ্ধান্ত, দিকনির্দেশনা ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা চাইবে বিএনপি
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ জন্য শিগগিরই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”
শোকের মধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর ভোর ছয়টায় বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। রাষ্ট্রীয় তিন দিনের শোক শেষে বর্তমানে বিএনপির সাত দিনের শোক কর্মসূচি চলছে, যা শেষ হবে ৫ জানুয়ারি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,
“আমরা এখনো গভীর শোকের মধ্যে আছি। নির্বাচনী কাজে মন থেকে উৎসাহ হয় না। তবু যতটুকু করা সম্ভব, করতে হচ্ছে।”
দলীয় সূত্র জানায়, শোক কর্মসূচি শেষ হলেই বিএনপি পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী মাঠে নামবে।
খালেদা জিয়ার আবেগকে ভোটে রূপ দেওয়ার কৌশল
দলীয় নেতাদের মতে, শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও খালেদা জিয়াই এবারের নির্বাচনী প্রচারের আবেগী কেন্দ্রবিন্দু হবেন। তার জানাজা ও অন্তিম বিদায়ে মানুষের বিপুল উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়াকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার কৌশলেই এগোচ্ছে বিএনপি।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে গঠন করা হয়েছে ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি।
বিদ্রোহী প্রার্থী বড় চ্যালেঞ্জ
তবে নির্বাচনের পথে বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী সমস্যা। শতাধিক আসনে একাধিক নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে নয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে বহিষ্কারের তালিকা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে দল।
শেষ ধাপে মাঠে নামতে পারেন তারেক রহমান
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারের শেষ ধাপে সরাসরি মাঠে নামতে পারেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দেশব্যাপী সফর ও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনাও রয়েছে।