১৯৪৪ সালে ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। তখন ভারত স্বাধীন হবে কিভাবে স্বাধীনতার পর মুসলমানদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি হবে এই প্রশ্নে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে গভীর মতবিরোধ চলছিল।
গান্ধী চেয়েছিলেন ভারত বিভক্ত না হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে থাকুক। কিন্তু তখন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবির প্রধান মুখ।
গান্ধী এই বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে জিন্নাহর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে উদ্যোগী হন। ১৭ই জুলাই ১৯৪৪ সালে গান্ধী জিন্নাকে দেখা করার প্রস্তাব দেন। জিন্নাহ ও তাকে বম্বেতে নিজের বাসভবনে আসতে সম্মতি দেন।
৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪ গান্ধী জিন্নাহর বোম্বে বাসভবনে যান
।এরপর সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত দফায় দফায় তাদের আলোচনা চলে। ছবিগুলো সেই সময়। গান্ধী জিন্নাহর সঙ্গে প্রায় ১৪ বার সাক্ষাৎ করেছিলেন।
তবে তাদের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি। এর তিন বছর পরেই ১৯৪৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ব্রিটিশ সরকারকে চাপ দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র আদায় করে নেন।
যে মানুষটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার পক্ষে শত শত হিন্দু পণ্ডিতদের সঙ্গে ডিবেট করে হারিয়ে দিয়েছিলে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে সহযোগিতা করেছিলেন, সে মানুষটাকে ভিলেন সাজিয়েছেন। আর যে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করে সম্মেলন করেছিল তাকে আপনারা ভগবান মানেন।
যে মানুষটা পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে, সে মানুষটার পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু চাওয়া বিশাল বড় ভুল ছিল। এ কারনে তাকে ঘৃনা করেন। কিন্তু ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তার কোন সামঞ্জস্য নাই।
পলাশীর ষড়যন্ত্রে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর পর ২০০ হিন্দুদের গোলাম হয়েছিল মুসলিমরা। ২০০ বছর পর মুসলমানরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছিল,এবং আলাদা রাষ্ট্র নিতে পেরেছিল এক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কারণে।
সেদিন যদি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান রাষ্ট্র আদায় করতে না পারতেন, তবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মই হতো না। বর্তমান ভারতের হায়দ্রাবাদ,সিকিম, কাশ্মীর বা মিয়ানমারের আরাকানের দিকে তাকিয়ে দেখুন , সেখানে মুসলমানরা কতটা অবহেলিত ও নির্যাতিত। ভারতের গোলামী থেকে এখনো স্বাধীন মুসলিম প্রদেশ হায়দ্রাবাদ এখনো মুক্ত হতে পারে নাই। আর পারবেও না, কারন তাদের কোন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নাই।
বাংলাদেশে শোষণ চালানোর জন্য আপনি পশ্চিম পাকিস্তানকে বা তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কে ঘৃনা করতেই পারেন। কিন্তু মোহাম্মদ আলী জিন্নাকে কে সম্মান করা উচিত। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্থান বা মুসলিম এর জন্য আলাদা রাষ্ট্র না করে নিলে, কেউ করতে পারত না। আমাদেরকে অখন্ড ভারতের কোন এক অবহেলিত প্রদেশের বাসিন্দা হিসাবে বাঁচতে হতো।