কংগ্রেসের বাজেট অফিস এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Hill ও NBC News-এর যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মার্কিন প্রশাসনের গোপন ও অপ্রকাশিত ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান এখন জনসমক্ষে উঠে আসছে।
মার্কিন ওয়েবসাইট ‘দ্য হিল’ স্বীকার করেছে যে, ইরানের সাথে সংঘাত পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে কারণ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এসব ঘাঁটির অনেকগুলোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশে (কাতার, ইউএই, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, ইরাক ও সৌদি আরব) অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের নির্ভুল হামলায় মার্কিন কমান্ড হেডকোয়ার্টার, বিমান হ্যাঙ্গার, রাডার সিস্টেম, রানওয়ে এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই যুদ্ধের কারণে আমেরিকার উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র এবং এয়ার-ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরের মজুদে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সামরিক ঘাটতি পূরণ করতে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগবে
মার্কিন কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও সামরিক উপদেষ্টারা স্বীকার করেছেন যে, জনসমক্ষে পেন্টাগন যে পরিমাণ ক্ষতির কথা বলেছিল, প্রকৃত ধ্বংসযজ্ঞ তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভয়াবহ।
পেন্টাগনের ভেতরের ও বাইরের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ‘ইরানের সাথে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে; এই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি ইরানের সাথে সংঘাতের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।’
এই নজিরবিহীন দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার পর, মার্কিন সামরিক নীতিনির্ধারকেরা এখন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের দীর্ঘদিনের কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে বিশাল সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার নীতি বাদ দিয়ে তারা এখন সেনাদের ভূগর্ভে [Underground] স্থানান্তর করা বা অঞ্চলটি থেকে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।