যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার সম্প্রতি এবিসি নিউজ-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এ এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরান যে সমস্ত শর্ত সামনে এনেছে, তা থেকেই প্রমাণিত হয় তেহরান বর্তমানে বেশ শক্তিশালী বা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আর সে কারণেই তারা মনে করছে যে, এই চলমান যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত তারাই জয়ী হতে চলেছে।
সাক্ষাৎকারে মার্ক এসপার ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং দেশটির ওপর থেকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ চিরতরে তুলে নেওয়া। এসপার এই দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ ‘হাস্যকর’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটন প্রশাসনকে অবিলম্বে তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।
তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার বারবার হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা থেকে পিছু হটেছে। মার্কিন প্রশাসনের এই অনীহা বা দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে তেহরান এখন আর ওয়াশিংটনের এই হুমকিগুলোকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছে না। উল্টো আগের চেয়ে অনেক বেশি সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে ইরানি নেতৃত্ব।
শুধু রাজনৈতিক বা কৌশলগত বিষয়ই নয়, বর্তমান সংকটকালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরের বড় একটি দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেছেন সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। একটিমাত্র প্যাট্রিয়ট মিসাইল তৈরি করতে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায়। ফলে হঠাৎ করে তৈরি হওয়া এই জরুরি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অস্ত্রের ঘাটতি রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব, যা বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্পের হাতকে অনেকটাই সংকুচিত করে ফেলেছে।