মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ফের বড় ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। নতুন একটি আঞ্চলিক মানচিত্র সামনে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হানার অভিযোগ তুলেছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সাথে সব ধরনের চলমান সরাসরি আলোচনা অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে গত ৪ থেকে ৬ আগস্ট ইতালির রাজধানী রোমে ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে সপ্তম দফার সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মূলত চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে কীভাবে স্থায়ী রূপ দেওয়া যায় এবং ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক লেবানন সীমান্ত এলাকায় বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংস করা বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল কর্তৃক লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার ভাঙার বিষয়েও মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের কাছে কড়া জবাব চেয়েছিল বৈরুত।
সীমান্ত সুরক্ষা ও বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে সামান্য অগ্রগতি হলেও একটি বড় শর্তের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। তেল আবিব চাচ্ছে হিজবুল্লাহ যেন তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে এবং দক্ষিণ লেবাননকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ করা হয়। শুরু থেকেই ইসরায়েলের সাথে এই ধরনের সরাসরি সংলাপের ঘোর বিরোধিতা করে আসছে হিজবুল্লাহ। তাদের মতে, এই ধরনের আলোচনা দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
সব জটিলতা ও সংকটের মাঝেই আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পরবর্তী দফার বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর এই কঠোর ও অনড় অবস্থানের পর লেবানন সরকার শেষ পর্যন্ত কোন কৌশল অবলম্বন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।