একটি শিশুকে এখানে আনা হতো টিকা দিতে। কোনো মা আসতেন মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিতে, কেউ আসতেন নিজের চিকিৎসার জন্য। প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুরের মানুষের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর, স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার একটি ভরসার জায়গা ছিল রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই সেই জায়গাটি এখন ধ্বংসস্তূপ।
এই জায়গার দিকে নজর ছিল অনেক আগে থেকেই। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবারও সেই চেষ্টা শুরু হয়।
তারপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই শতাধিক মুখোশধারী ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর ও বেঁধে রাখে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওষুধ, ভ্যাকসিন, সরকারি টিকার নথি ও চিকিৎসাসামগ্রী লুটের পর ভারী যন্ত্র দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পুরো স্থাপনা।
মামলায় নাম এসেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য এবং একজন বিএনপির একজন নারী সংসদ সদস্য নেতৃত্বাধীন পক্ষের কথাও এসেছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী লুট ও ভাঙচুর মিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতি ১ কোটি ৯ লাখ টাকা
ক্ষমতায় থাকা মানে শুধু রাষ্ট্র পরিচালনা করা নয়, নিজের দলের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধেও আইনকে সমানভাবে দাঁড় করানো। অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই হোক, তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত পুনর্গঠন করা সরকারের দায়িত্ব। কারণ রাজনীতির ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সেটি সময়ের সঙ্গে বদলায়। কিন্তু গরিব মানুষের সন্তানের টিকা, একজন মায়ের চিকিৎসা আর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার জায়গা কোনো রাজনৈতিক দখলদারত্বের মূল্য হতে পারে না।