যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও দাবির মধ্যেই অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফাজল শেখারচি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, ৪০ দিনের তীব্র যুদ্ধ চলাকালীন কিংবা যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরেও ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন প্রক্রিয়া এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকেনি।
শত্রুপক্ষ বা বিদেশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ইরানের বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর দেশটির সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে—যেসব বিষয় নিয়ে রয়টার্স বা আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে জেনারেল শেখারচি এই দাবিগুলো সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি উল্টো কড়া সুরে বলেছেন, ভুল ও মিথ্যা তথ্যের কারণে শত্রুরা সবসময়ই বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। তারা আসলে জানেই না যে ইরান ঠিক কোথায় এবং কোন গোপনীয়তায় তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎপাদন করে চলেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারখানাগুলোতে উৎপাদিত এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো কোনো রকম বিরতি ছাড়াই সরাসরি সামরিক অপারেশনের মাঠে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব সামরিক মজুত বা স্টকও সমান তালে পূরণ করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তেহরান পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে পারে। এ বিষয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সামরিক সূত্রগুলোর নিয়মিত আপডেট থেকে আরও বিস্তারিত জানা যায়।
সাক্ষাৎকারে ইরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লক্ষ্যের কথাও খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মূল কৌশল ও লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির চিরতরে অবসান ঘটানো এবং তাদের এই বিতাড়ন প্রক্রিয়ার হাত ধরেই অবৈধ ইসরায়েল শাসনের চূড়ান্ত পতন ঘটবে।