চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের সহযোগীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের সহযোগীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গতকাল সন্ধ্যা ও রাতে পৃথক অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর এবং জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ সোহেল রানা এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী।
থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন—দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহেল এবং মো. ফারুক।
পরে রাতের অভিযানে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। তবে শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড থানার এসআই মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সোহেল ও দেলোয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তারা সবাই র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামি।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের খুলশী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই মামলায় মিজান ও মামুন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন র্যাব-৭ এর উপ-সহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়্যা। ওই ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন।
ঘটনার দিন সন্ত্রাসীরা র্যাব কর্মকর্তাকে অপহরণ করে পাহাড়ের গভীরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য নিয়ে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার প্রধান আসামি ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় পুলিশের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।