মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তেহরানে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত পিয়েরে কোচার্ডকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার বিভাগের প্রধান হামিদ আহমাদি ফরাসি দূতকে তলব করে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানান। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনী অতিমাত্রায় সহিংস আচরণ করছে। এমনকি পুলিশ শ্রেণীকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়েছে। এই দমনপীড়নে বহু বিক্ষোভকারী অন্ধত্বসহ স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন বলে ইরান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্যারিসের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, চলতি বছরের শুরুতে ইরানে বিক্ষোভ দমনের সময় ফ্রান্স তীব্র সমালোচনা করেছিল; অথচ এখন নিজেদের দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতার অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে তারা সম্মান জানাচ্ছে না।
ফ্রান্সে শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দের ঘাটতির প্রতিবাদে সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিক থেকে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে বেশ কিছু স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সহিংসতা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার দায়ে ফরাসি পুলিশ এ পর্যন্ত ৫,০০০-এরও বেশি মানুষকে আটক করেছে, যাদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফ্রান্স ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক গত কয়েক মাস ধরেই বেশ উত্তপ্ত। গত আগস্ট মাসে উভয় দেশই একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছিল, আর ফরাসি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেই বৈরিতা আরও এক ধাপ বাড়ল।