বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। না ভারত, না আমেরিকা
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোকে ঘিরে বর্তমানে দুটি বড় শক্তির প্রভাব খেলা চলছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। সেনাপ্রধান যেখানে ভারতের কৌশলগত প্রভাব ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী, সেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা দেখা যাচ্ছে আমেরিকান স্বার্থ ও নীতির ধারক হিসেবে।
তবে দেশের সাধারণ মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ নিজেই, জনগণের ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে বাংলাদেশের অবস্থান দিন দিন গুরুত্ব পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় ভারতের প্রভাব ধরে রাখার কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা এখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন , সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক কিছু অবস্থান ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ভারতের প্রভাবের ছায়া স্পষ্ট। ভারতের লক্ষ্য বাংলাদেশ যেন তাদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কৌশলে অনুগত থাকে।
অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ ও নীতিগত প্রভাবে দেশ পরিচালনায় নতুন কাঠামো দাঁড় করাতে চাইছেন বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
কিন্তু এই দ্বিমুখী প্রভাব রাজনীতিতে জনগণের অবস্থান একদম পরিষ্কার বাংলাদেশ কোনো পরাশক্তির তাবেদার রাষ্ট্র নয়।
স্বাধীনতা অর্জন করা এ দেশ নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পরনির্ভর নয়, বরং জনগণই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণকারী।
জনগণের প্রতিক্রিয়া
দেশের সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নাগরিক আন্দোলন ও জনসভায় বারবার উচ্চারণ করছে “বিদেশ নয়, জনগণই বাংলাদেশের মালিক।”
তারা মনে করছে, যেকোনো প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন সিদ্ধান্তই হবে প্রকৃত মুক্ত বাংলাদেশের প্রতিফলন।
আজকের বাংলাদেশ এক নতুন ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে।
যেখানে একদিকে ভারতের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দৃঢ় করার প্রচেষ্টা চলছে সেখানে দেশের জনগণই বলছে:
রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কোনো বাহিনীর প্রধান বা উপদেষ্টা নয়, জনগণই নেবে।
এটাই গণতন্ত্রের মূল, এবং এটাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা।