দেশীয় সংস্কৃতির ধারণ, লালন ও বিকাশে আমরা কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি। এ কারণে অপসংস্কৃতি আমাদের ওপর ভর করেছে। যাকে বলে ‘কারচারাল অ্যাগ্রেশান’। এই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ প্রতিবাদ করে, বক্তৃতা দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ সম্ভব। তখনই কেবল একটি জাতিকে সুস্থ সংস্কৃতির ওপর দাড় করানো সম্ভব।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) ও কাওয়ালী সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার তিন গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকারী তিন প্রতিযোগীকে পবিত্র কাবা ঘরে ওমরাহ করাবেন বলে ঘোষণা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূলের (সা.) পুরো জীবনের দিকে যদি আমরা নজর দেই, তাহলে দেখব তার পুরো জীবনে রাজনৈতিক কার্যক্রমের চেয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি। কারণ একটি সুন্দর গানও মানুষের অন্তরে ঈমানের নূর জ্বালিয়ে দিতে পারে, অন্তরকে তরতাজা করতে পারে।
আমীরে জামায়াত সবশেষে বিজয়ীদের প্রতি মহান আল্লাহর কাছে তাদের সম্মৃদ্ধি কামনা করে তার আলোচনা শেষ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে ‘নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, নাত ও কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সিরাতগ্রন্থ প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও সমাজসেবক এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান এমপি, অধ্যাপক মোক্তার আলী এমপি, কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ দেশ-বরেণ্য গুণীজনরা। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানছুর। জমকালো এ আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।