মুনতাসির মাহমুদ এক ফেসবুক পোস্টে বলেন,
একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে নির্বাচন করতেছি, কিন্ত নানা কারণে মনে শান্তি নাই৷ বড় দল, বড় জোট, দুর্নীতির টাকা, বিশাল কর্মী বাহিনী, দক্ষ লজিস্টিকস কিছুই আমার নাই। আছে শুধু সৎ সাহস, সততা এবং আল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, সারাদিন অমানবিক পরিশ্রম করার পর ক্লান্ত দেহে যখন বিছানায় ঘুমাতে যাই, তখন প্রতি রাতেই আমার হাদি ভাইয়ের কথা মনে হয়। আমার ভাইয়ের সাথে আমার এই দুনিয়ায় একটি বারের জন্যেও দেখা হলো না।
হাদি ভাই আমাকে খুব ভালো করে চিনতেন, আমার আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস জানতেন, এটা তিনি নিজেই আমাকে ভয়েস দিয়ে বলেছিলেন।
সেই কালো শুক্রুবারের ১ দিন আগেও কথা হলো, বৃহস্পতিবার সকালে দেখা হওয়ার কথা। হলো না। দুজনেই আমরা ব্যস্ত দেশ সংস্কারের সংগ্রামে, জুলাইকে টিকিয়ে রাখার মিছিলে।
আমরা ভেবেছিলাম, আমাদের সময় আছে, দেখা তো হবেই। কিন্ত মহান আল্লাহর পরিকল্পনা যে ভিন্ন। আল্লাহ আমার ভাইকে শহীদ হিসাবে কবুল করেছেন। যদি আমি একটু হলেও বুঝতাম, তাহলে অবশ্যই হাদি ভাইয়ের কাছে গিয়ে বসে থাকতাম। তন্ময় হয়ে কথা শুনতাম, শিখতাম, দোয়া নিতাম।
নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে আমার হাদি ভাইকে ছাড়া, এই কষ্ট প্রতিরাত আমাকে ঘুমাতে দেয় না। হাদি ভাই বলেছিলেন, তিনি সংসদে গেলে বাকি ২৯৯ জনের ঘুম হারাম করে দিতেন।” এই মানুষটা নাই। এই নির্বাচনে আর একজনও নাই যে হাদি ভাইয়ের মত। কেউ না। হাদি ভাইয়ের সততা, প্রজ্ঞা এবং দেশপ্রেমের ধারেকাছেও কেউ নাই।
আমি এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ছিলাম। তার আগে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলাম। জুলাইতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। ভিপি নুর থেকে শুরু করে নাহিদ, আসিফ, আখতার এবং পরবর্তীতে মাহফুজ, নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী সহ বহু নেতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। বলা যায়, এদের রাজনৈতিক জন্ম এবং উত্থান আমাদের চোখের সামনে হয়েছে। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, শহীদ ওসমান হাদির মত ঈমান, দেশপ্রেম এবং সততা এদের কারো মধ্যে নাই।
হাদি ভাইয়ের মধ্যে বিন্দুমাত্র কপটতা ছিলো না৷ যেখানে গালি দেয়া দরকার, গালি দিছেন। যেখানে লড়াই করা দরকার, করেছেন। যেখানে ধৈর্য ধরা দরকার, প্রজ্ঞার সাথে মোকাবেলা করেছেন। এত পিউর একটা মানুষ কিভাবে হয়??
প্রতিটা দিন হাদি ভাইয়ের জন্য অশ্রু ঝড়ে। হাদি ভাইয়ের ভিডিও দেখি আর আল্লাহকে বলি, হে আল্লাহ! আমাকে হাদি ভাইয়ের মত ঈমান, সাহস এবং যোগ্যতা দাও। দুনিয়ার কোনকিছুতেই হাদি ভাইয়ের অভাব পূরণ হবে না। হাদি ভাই ইজ নট রিপ্লেসেবল।
মুনতাসির মাহমুদ ইনকিলাব মঞ্চের একটা প্রোগ্রামেই বক্তব্য দিয়েছিলাম। সেদিন বলেছিল, আমরা সবাই বলি, আমরা সবাই হাদি হবো৷ কিন্ত হাদি ভাই হওয়া এত সহজ না, এটা সবচেয়ে কঠিন কাজ। হাদি ভাইকে ভালোবাসলে নিজের জীবনে হাদি ভাইকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করেন।
এই নির্বাচন চলে যাবে। আমি হাদি ভাইকে নিয়ে থাকবো। আমার নির্বাচনী প্রচারণায় আমার গান ১ বার বাজলে হাদি ভাইয়ের গানও ১ বার করে বাজে। আমি পুরা নির্বাচনী প্রচারণায় #JusticeForHadi লিখা চাদর গায়ে দিয়ে ঘুরি। মানুষের কাছে হাদি ভাইয়ের জন্য দোয়া চাই, ন্যায়বিচার চাই। আমি ভুলেও বলি না, আমি হাদি ভাইয়ের মত। আমি সবসময় বলি, আমার শহীদ ওসমান হাদি হওয়ার যোগ্যতা নাই, সেই ঈমান নাই। যতদিন আমার জীবন আছে, ততদিন হাদি ভাই বেচে থাকবে।
“হাদির ছবি আঁকি মন দেয়ালে,
হাদি বেচে থাক গান-স্লোগানে।
হাদি মানে ইনসাফ, হাদি মানে ন্যায়, হাদি মানে বাংলাদেশ।
~ মুনতাসির মাহমুদ
সংসদ সদস্য প্রার্থী, ঢাকা ১২।