চা-শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে শতকোটি টাকা বকেয়া
উপজেলা প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ :১২ এপ্রিল ২০২৬
চা-শ্রমিকদের অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তার প্রধান ভরসা প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) এখন চরম অনিশ্চয়তায়। নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত অর্থ জমা হওয়ার কথা থাকলেও ৫৮টি চা-বাগানে বিপুল অঙ্কের বকেয়া জমে গেছে, যার পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদন
চা-শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনের শেষ সঞ্চয় হিসেবে বিবেচিত প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকদের জন্য এই তহবিলই অবসরের পর একমাত্র আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচিত।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫৮টি চা-বাগানে শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়নি। ফলে হাজারো শ্রমিক তাদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বাগান মালিকদের সমপরিমাণ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ—মোট ১৫ শতাংশ অর্থ পিএফ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। এর পাশাপাশি আরও প্রশাসনিক ব্যয় যুক্ত থাকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বহু বাগান মালিক দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ জমা দিচ্ছেন না।
চা-শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের ২৮ ফেব্রুয়ারির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, একাধিক বাগানে দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ইমাম-বাওয়ানী চা-বাগানের ৬৯ মাসের প্রায় ৮৯ লাখ টাকা, দলই চা-বাগানের ২১ মাসে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, এবং রাজনগর চা-বাগানের ২১ মাসে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। কিছু বাগানের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলাও চলমান।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, বাকি ৫২টি বাগানের বকেয়ার পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ না হলেও তা শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কুন্দ বলেন, “শ্রমিকদের আয়ের তুলনায় পিএফই একমাত্র সঞ্চয়। এটি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তাদের জীবন আরও সংকটে পড়বে।”
অন্যদিকে সাতগাঁও চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান জানান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক বাগান আর্থিক সংকটে রয়েছে, তবে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক মহব্বত হোসাইন জানান, ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাগিদপত্র পাঠানো, পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে বকেয়া আদায়ের চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র
- চা-শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রকের দপ্তর
- চা-শ্রমিক ইউনিয়ন
- চা-বাগান মালিকপক্ষ
- শ্রম আদালত সংক্রান্ত নথি