প্রকাশ । ০২ এপ্রিল ২০২৬
সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে জনগণ আবারও রাজপথে নামবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের শের-ই-বাংলা নগর থানা দক্ষিণ ও তেজগাঁও দক্ষিণ থানার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন সাইফুল আলম খান মিলন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশা করা হয়েছিল। জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনীতিতে নতুন ধারার সৃষ্টি হবে বলেও অনেকে প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুপ্ত বাসনার কারণে সেই অর্জন ব্যাহত হচ্ছে।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটকে অসাংবিধানিক বলছে, কিন্তু একই অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বৈধ হিসেবে স্বীকার করছে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের দ্বৈত অবস্থানের মাধ্যমে সরকার জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করছে।
তিনি সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান। অন্যথায় জনগণ নতুন করে আন্দোলনে নামবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষ গণরায় দিলেও সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি গণভোট অধ্যাদেশ জারি করলেও ক্ষমতাসীনরা তা মানছে না। বরং সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা আইনের অপব্যাখ্যা করে সংসদে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং গণরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে।
তিনি সরকারকে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণই সরকারকে গণরায় বাস্তবায়নে বাধ্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেমায়েত হোসাইন, মো. আতাউর রহমান সরকার, এস এম মনির আহমেদ, তারিফুল ইসলাম এবং ফরিদ আহমেদ রুবেল।