মোংলা (বাগেরহাট), ০২ এপ্রিল ২০২৬
১৪ দিনের সরকারি অনুমতিপত্র নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু করেছেন মৌয়ালরা। তবে বনদস্যু আতঙ্ক, বন্যপ্রাণীর আক্রমণ এবং প্রাকৃতিক ঝুঁকির মধ্যেই জীবিকার তাগিদে বনে প্রবেশ করতে হচ্ছে তাদের।
বুধবার সকাল থেকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দলবদ্ধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন মৌয়ালরা। বন বিভাগের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের পাস ইস্যু করা হয়।
মৌয়ালরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও জীবন বাজি রেখে মধু সংগ্রহে যেতে হচ্ছে। তবে এবার বনাঞ্চলে দস্যুদের তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা তাদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক তৈরি করেছে। পাশাপাশি রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আক্রমণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও রয়েছে।
এক মৌয়াল রিপন খান বলেন, তারা ১৪ দিনের পাস নিয়ে বনে ঢুকেছেন এবং নিয়ম মেনে মধু সংগ্রহ করবেন। তবে বনদস্যুর ভয় সব সময় থাকে। নিরাপদে ফিরে আসতে পারাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতে সুন্দরবন অঞ্চলে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা ছিল। বিভিন্ন সময়ে দস্যু বাহিনী জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও মাঝেমধ্যে দস্যু তৎপরতার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে রেজাউল করিম জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে তারা মধু আহরণ করবেন এবং বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক তদারকিতে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দলকে নিবন্ধনের আওতায় এনে পাস প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বনদস্যু আতঙ্ক পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত মৌয়ালদের ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।