ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে সরাতে ছাত্রদের লেগেছিল ৩৬ দিন, আর রাষ্ট্রপতিকে সরাতে বিএনপির লাগল ১৫৮ দিন। দেরিতে হলেও পদত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সরে যাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সঙ্গে তাঁর আমলের দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম জুলাই অভ্যুত্থানের অংশীদারদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত এই বিতর্কিত ব্যক্তির অপসারণ বা পদত্যাগ। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল বিএনপি শুরু থেকেই এ ব্যাপারে সম্মত ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তহীনতাও এ ব্যাপারে কম দায়ী নয়। বিএনপি বারবার সাংবিধানিক শূন্যতার কথা এবং রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নেওয়ার বিষয়টিকে সামনে এনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর পতিত ফ্যাসিবাদের পুতুল এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে দিয়ে সংসদে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ানোর মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতিকে আরও হাস্যকর এবং তামাশার বিষয় বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ইমপিচমেন্ট করার উদ্যোগ গ্রহণেও বিএনপি পদক্ষেপ নিতে পারেনি।”
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, চেপে বসা ফ্যাসিবাদের মূল হোতা শেখ হাসিনা, তাঁর চোর-লুটেরা মন্ত্রিসভা, পদলেহনকারী প্রধান বিচারপতি, পুলিশ বাহিনীর হোতৃবৃন্দ, দালাল সাংবাদিকগণ ও ব্যবসায়ীসহ প্রধান চরিত্রের বেশীরভাগ অংশকে বিতাড়িত করতে সংগ্রামী ছাত্র-জনতার লেগেছিল মাত্র ৩৬ দিন। এর জন্য প্রয়োজন হয়েছিল সকলের ঐক্যবদ্ধতা। সেখানে সংবিধানের দোহাই, সংসদ কিংবা আইনের ফাঁকফোকরের কোনো প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু ফ্যাসিবাদের অংশীদার পুতুল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে সরাতে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী বিএনপির লেগেছে ১৫৮ দিন। এর অন্তরালে কী উদ্দেশ্য ও বিধেয় কাজ করেছে, তা আশা করি জনগণ বিবেচনায় নেবে।
শেষে এবি পার্টির নেতারা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, ব্যাংকের টাকা লুটপাট ও অর্থ পাচারসহ আনীত সকল অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।