ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে অসন্তোষ আইনপ্রণেতাদের; বাজেট অধিবেশনে বাড়তে পারে চাপ ও বিতর্ক
ঢাকা
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ২৮০টি সংসদীয় আসনে অর্থ ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিলেও তা অপ্রতুল বলে দাবি করছেন অনেক সংসদ সদস্য।
এই ইস্যুতে চলতি সংসদ অধিবেশনে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মূল প্রতিবেদন
তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখতে দেশের ২৮০টি সংসদীয় আসনে অর্থ ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাধিক আইনপ্রণেতা। ফলে বিষয়টি সংসদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকার আসনগুলো বাদ দিয়ে বাকি আসনগুলোয় এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম মেয়র বা প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এসব এলাকায় আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের প্রস্তাব থাকলেও তা কমিয়ে প্রথম ধাপে ২৫ লাখ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। পরে আরও একটি দফায় কিছু বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সংসদ সদস্যরা তা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্থানীয় উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, বর্তমান বাজারদর এবং নির্মাণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে এ বরাদ্দ কার্যকর উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। একটি উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা বেশি হলে গড় বরাদ্দ দিয়ে ছোটখাটো অবকাঠামো নির্মাণও কঠিন হয়ে পড়ে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বরাদ্দ মূলত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, কবরস্থান ও শ্মশান মেরামত এবং সড়ক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি খাদ্যশস্য ব্যবহার করা হবে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল মানুষের সহায়তায়।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উন্নয়ন ব্যয় বেড়ে গেছে। এছাড়া সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে বরাদ্দ সীমিত রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে কম বরাদ্দের কারণে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে না পারলে জনঅসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব সংসদ অধিবেশনেও পড়তে পারে। বিশেষ করে বাজেট অধিবেশনে এমপিরা ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতা ভেদে প্রতিটি আসনের চাহিদা আলাদা। সে তুলনায় বরাদ্দ যথেষ্ট নয়।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে বরাদ্দকে একেবারে অপ্রতুল বলা যায় না। তবে ভবিষ্যতে তা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আবদুল আলীম মনে করেন, সংসদ সদস্যদের সরাসরি উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। তাদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত; উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রশাসনের মাধ্যমে হওয়াই সমীচীন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পায়, যার একটি বড় অংশ অতীতে সংসদ সদস্যদের মধ্যে থোক বরাদ্দ হিসেবে বিতরণ করা হতো। তবে এ বরাদ্দ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার এই থোক বরাদ্দ ব্যবস্থা বাতিল করলেও বর্তমান সরকার তা পুনর্বহালের পথে রয়েছে। ফলে আগামী অর্থবছরে পুনরায় এ বরাদ্দ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক বাড়তে পারে।
সূত্র
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
- সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা
- সংসদ সদস্যদের বক্তব্য