বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি হ্রাসে গবেষণা জোরদার ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
ঢাকা
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, নিরাপদ অবকাঠামো গড়তে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মূল প্রতিবেদন
দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা জোরদার এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ’র শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত “ভূমিকম্প: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে এ মতামত তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রগতিশীল প্রকৌশলী পরিকল্পনাবিদ ও স্থাপত্য সমাজ সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন।
এতে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহদী আহমেদ আনসারি, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ খন্দকার নিয়াজ রহমান, রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরের ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশ ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি মানুষ অনুভব করেছে।
তারা আরও বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সিসমোগ্রাফ ও তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে ভূমিকম্প গবেষণা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলেও অর্থ ও জনবল সংকটে তা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, ফলে বিদেশি তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সেমিনারে বলা হয়, ২০২০ সালের বিল্ডিং কোডে ভূমিকম্প ঝুঁকির জোন নির্ধারণ থাকলেও নতুন তথ্য অনুযায়ী তা হালনাগাদ করা জরুরি। পাশাপাশি ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নির্মাণ খাতে লাইসেন্স ও সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত উদ্ধার দল গঠন ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
তাদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কেবল ভাগ্যের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সূত্র
- ডিআরইউ সেমিনার
- সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য