আজ ৬ জুন শনিবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোঃ মোবারক হোসাইন বলেছেন, “জনগণবান্ধব বাজেট ও সুশাসনের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।” তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। তাই এমন বাজেট প্রণয়ন করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে নয়, বরং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, অপচয় রোধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে।
রামিসা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মোবারক হোসাইন বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে ব্যাংকটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
তরুণ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের জন্য আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। আদর্শ, নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে হবে। তিনি দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
মোবারক হোসাইন আরও বলেন, যোগ্য, আদর্শবান ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্বই একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। এজন্য প্রত্যেক কর্মীকে আত্মগঠন, সমাজসেবা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।