১১ জুন চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং এ ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডেপুটি স্পীকার জানান বাংলাদেশের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তার সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সফরের জন্য চীনকে বেছে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাথে চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে এবং উভয় দেসের সমন্বিত কৌশলগত সহযেগিতাকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডেপুটি স্পীকার প্রসঙ্গক্রমে ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর চীন সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের শুভ শূচনা হয় তার হাত ধরেই।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে সম্পর্কের ভীত মজবুত করে ডিজিটাল এবং অর্থনৈতিক বহুমুখী উদ্যোগ , আন্তঃ সীমানা অবকাঠামো, বানিজ্য করিডোর এবং ডিজিটাল হাইওয়ে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুনদের অভিজ্ঞতার আদান প্রদান ইত্যাদি সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করে একযোগে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করতে হবে।
বাংলাদেশে ও চায়নার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় সমূহ নিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় দল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মিঃ ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিং এর সাথে একান্তে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় দল কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ইকোনমিক জোন পর্যটন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। চীনের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলাদেশের সাথে চীনের দীর্ঘ দিনের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে চীন কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
ডেপুটি স্পীকার চীনা প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তারা আন্তরিকভাবে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অচিরেই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।