বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন জনসমাগম স্থল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থী, পথচারী, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এ এলাকায় আসেন। তাই তিনি এ স্থানকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে ডেপুটি স্পীকার এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এর নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানিক মিয়া এভিনিউতে আসেন। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা, যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি উত্তরণে সংসদ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্য বর্ধনের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি, আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার প্রজনন বৃদ্ধি করতে পারে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানিক মিয়া এভিনিউ এবং সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকাকে আরও সবুজ ও পরিবেশসম্মত করে গড়ে তোলার জন্য সংসদ চত্বরের দেয়াল ঘেঁষে এবং উপযুক্ত খালি স্থানে অধিক সংখ্যক বৃক্ষ, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছপালা রোপণ করতে হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে দর্শনার্থীদের জন্য আরও মনোরম ও ছায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সচিবালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানিক মিয়া এভিনিউকে রাজধানীর একটি আদর্শ, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জনপরিসরে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।