বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই মহাসমাবেশের প্রধান দাবি গণভোটের গণরায়কে কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয় বলেছি আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতিদিনের নিত্যদিনের জীবন প্রবাহের জন্য জনদুর্ভোগ, অশান্তি বাড়ছে, এই দুর্ভোগকে দূর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এখন ক্ষমতায় যারা আছেন বিএনপির উনারা তো সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদের একেবারে বিরোধী দলে কারা আছেন কি নেই দেখার দরকার নেই। উনারা বলে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন দিয়ে উনারা দেশ চালাতে চান। ঠিক আছে আপনারা নির্বাচিত হয়ে যেভাবেই হোক আপনারা এসে গেছেন। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন, ফলাফল ম্যানিপুলেশন করেছেন। বিএনপির অভ্যন্তরে লুকানো কিছু গুপ্ত উপদেষ্টা ছিল যারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিরোধী দলের অনেক নেতাকে ইচ্ছে করে হারিয়ে দিয়েছে। তা না হলে আমরা ১১ দল ১৮০ এর মতো আসন পেতে যাচ্ছিলাম। ফলাফল ঘোষণা হচ্ছিল কিছুক্ষণ পর সকল মিডিয়াতে ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করে দেয়া হলো। রহস্যজনকভাবে ফলাফল ম্যানিপুলেশন করে আমাদেরকে অর্থাৎ বিরোধী দলে ঠেলে দেয়া হলো। সরকারের একজন উপদেষ্টা তো পরবর্তীকালে স্বীকারই করেছেন। জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন আমরা এই দলকে মেইনস্ট্রিমে আসতে দেইনি। আমরা মনে করি, উনার সাথে উনি ছাড়া আরো অনেক লোক ছিল। আমাদের বলা লাগবে না আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসবে। চুরি যে করে তার মধ্যে একটা চোর চোর মনোভাব থাকে। গল্পে গল্পে কোন না কোন সময় বলে ফেলে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের আমীরে জামায়াত সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বলেছিলেন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কারা জড়িত আমরা নাম বলবো না এক সময় ঠিকই বেরিয়ে আসবে। ঠিকই এক ভদ্রমহিলা বলে ফেলেছেন। অনেক প্রশ্ন অনেক কষ্ট সত্ত্বেও আমরা এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি একটা কারণে। সতেরো বছরের রাজনীতিতে সংঘাত, সহিংসতা, হানাহানি, জ্বালাও পোড়াও, হরতাল ধর্মঘট, খুনাখুনি, রক্তারক্তি, বিরোধী দলের উপর দমন পীড়ন কবর দিয়ে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম। আমরা যদি এই ফলাফল বয়কট করতাম আরেকটি রক্তঝরা আন্দোলনের সূচনা আমরা করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের নেতা সংসদে বলেছিলেন দেশের রাজনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে মানুষের জীবনের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে আমরা এই ফলাফলকে মেনে নিয়েছি। তার অর্থ এই নয় আপনারা জোর করে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন, ভোট ছিনতাই করেছেন, এটাকে কিন্তু আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি না। আপনারা কিন্তু ইতিহাসে ভোটচোর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।