বিএনপি সরকার গত ৩০ জুনে জাতীয় সংসদে যেদিন তার সম্প্রসারণশীল বিশাল বাজেটটি পাস করলো সেই একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। একই দিনে একই সরকারের মাঝে এ ধরনের পরস্পর বিরোধী ঘটনা জাতিকে একই সাথে বিস্মিত ও হতাশ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কে সঠিক? সরকার, নাকি বাংলাদেশ ব্যাংক?
রাষ্ট্রের জনকল্যাণে সরকারের রাজস্ব নীতি (ফিসক্যাল পলিসি) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি (মনিটরি পলিসি) সবসময় একে অপরের সহায়ক এবং সাধারণত পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলার কথা। কিন্তু জাতি অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করছে সরকার যখন বড় বাজেটের মাধ্যমে একটি সম্প্রসারণশীল আর্থিক নীতি গ্রহণ করেছে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি তথা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। এ দায় কার?
দেশে গত ৪ বছর ধরে টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একমাত্র প্রধান কাজই হচ্ছে মূল্যস্ফীতি রোধ করা। কারণ মূল্যস্ফীতি রোধ করা না গেলে বাজারে তার প্রচলিত মুদ্রার (টাকা) মান ক্রমাগত নিম্নগামী হতে ও ক্রয়ক্ষমতা হারাতে বাধ্য।
এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি রোধে আইএমএফ নির্দেশিত একমাত্র যে দাওয়াই দিয়ে চলেছে, তাহলো সুদের হার বৃদ্ধি এবং বাজারে মুদ্রা সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা। আর সুদের হার বাড়তি থাকলে মুদ্রা বাজারে অর্থাৎ ব্যাংকে এমনিতেই টাকা বা ঋণের চাহিদা কমে যায়। ফলে মানুষের হাতে যথেষ্ট টাকাপয়সা না থাকলে কেনাকাটা কমে গিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা। তার ওপর ১৬ বছরের লুটপাটে ব্যাংকে এখন আদতেই তেমন কোনো টাকাপয়সা নেই।